শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

দেশের জন্য ভাবনায় লঙ্কানরা

দেশে আগুন জ্বলছে, রাস্তায়-রাস্তায় বিক্ষোভ। সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের আক্রমণ করে মেরে ফেলতে চাইছে শ্রীলঙ্কান নাগরিকরা। তা থামাতে সেনা নেমেছে রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশও হয়েছে। এরও আগে তীব্র খাদ্য সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামছাড়া। এতকিছুর মধ্যে ক্রিকেট! হ্যাঁ, ক্রিকেট। আর তা খেলতেই পরিবারকে দেশের এমন অবস্থায় রেখে বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল।

অথচ দিমুথ করুনারতে্নদের দেখে বোঝায় উপায় নেই অশান্তির আগুনে অস্থির তারা। দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ না হলেও নিবিড় অনুশীলনে সময় কাটাচ্ছেন ইনডোরে। সবাই মিলে লাঞ্চ করছেন টেবিলে বসে। নানা কথায় হাসিও ফুটছে তাদের মুখে। তবুও সবকিছুর মধ্যে কেমন যেন জড়তা বা দুশ্চিন্তার আড়ষ্টতা তাদের চোখেমুখে। সামনে থেকে তাদের এই অবস্থা দেখা যায়নি। তবে তা প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সারা দিন ক্রিকেট ব্যস্ততার পর প্রায় সব ক্রিকেটারই পরিবারের খোঁজ রাখছেন। সংবাদ মাধ্যমে চোখ রেখে খব নিচ্ছেন স্বদেশের। সেই সত্যতা মিলছে সামাজিক মাধ্যমে। গতকাল শ্রীলঙ্কার রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দিয়েছেন শ্রীলঙ্কান প্রতিরক্ষাপ্রধান ও সেনা কমান্ডার শাভেন্দ্র সিলভা। এইসব খবরে ঢাকায় বসেও উদ্বিগ্ন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। ত্বরিত তো আর দেশে ফেরা হচ্ছে না। তাই টুইটারে পোস্ট করে দেশের মানুষকে শান্ত ও এক হয়ে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। ঢাকায় বসেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন তারা। দলটির সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস লিখেছেন, ‘দুর্বৃত্তরা আমাদের দেশে কী করছে তা দেখা খুবই বেদনাদায়ক। পাশাপাশি এই বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির মধ্যেও দেশের নাগরিকদের একাত্ম দেখাটা হৃদয়ে শক্তি জোগায়। শ্রীলঙ্কানরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ও ঐক্যের শক্তি দেখিয়েছে। আমি সবার কাছে অনুরোধ করি সহিংসতার হাতে দেশকে তুলে দিয়ো না।’ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আগুনে পোড়া গাড়ির ছবি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ‘আমার দেশের ইতিহাসে অন্যতম দুঃখের দিন। আশা করি আমরা বিভক্ত হব না। মা লঙ্কাকে ঈশ্বর রক্ষা করুন।’ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকভেলা এই দুঃসময়ে সবার পাশে থাকার কথা জানান, ‘আমার সহ-নাগরিকরা, আমাদের দাবি মেটানোর যে লড়াই আপনারা করছেন আমি এতে আপনাদের পাশে আছি। আমরা এক থাকব।’

অবশ্য যুদ্ধ আর লঙ্কার ক্রিকেট অতীত থেকেই কাছাকাছি। যুদ্ধ দেখে মানসিকভাবে শক্ত লঙ্কানদের তাই শারীরিক শক্তির রহস্যও অবাক হওয়ার নয়। একসময় ক্রিকেট তারা গৃহযুদ্ধ মাথায় নিয়েই খেলত। বাংলাদেশ সফরে আসা ম্যাথিউজদের যেন সেই দশা। তবে অবশ্যই তারা চান না অতীত ফিরে আসুক। লঙ্কান দলের চাওয়া শান্তি ফিরুক তাদের দেশে। তারাও বাংলাদেশ সিরিজে মনোযোগ দিক নির্ভার হয়ে। দেশের গৃহযুদ্ধের অতীত মনে করিয়ে লঙ্কান গ্রেট মাহেলা জয়াবর্ধনেও বিভীষিকা না ফেরার প্রার্থনা করলেন, ‘ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দিয়েছে কীভাবে গৃহযুদ্ধ ও অবিশ্বাসে জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতা ছড়ায় ও তা কীভাবে একটি দেশের শান্তি নষ্ট করে। একই ভাবে এই অস্ত্র ব্যবহার করে কীভাবে অনেকে তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করে। মনে রাখবেন বিচ্ছিন্নতা নয়, একতাই বল।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com